মায়ের ভাষা কাঁদে
- আবু সাইদ লিপু - নোনা জলের অগ্নি-সায়র
সেদিন মায়ের রক্তচোখ দেখেছি।
শীর্ণ শরীরে-
আলুথালু ভূষণ
জমিনে গড়িয়ে ছিন্ন বসন।
বোতাম-ছেড়া জামা সেইফটি পিন দিয়ে
উদোম-বুক ঢাকার তাড়া নেই কোন,
উছলে পড়া সৌন্দর্য পিষে রাখার
সামান্যতমও তাড়া নেই।
নগ্ন পা অ্যাসফল্টে ধ্বনিত হয় না
মলিন বসনে মাড়ের খসখসও হয় না।
একসময় দিপ্তী মেলে সে রক্তচোখে-
চারিদিকে তাঁর বজ্রচাহনি
ক্রোধের আগুনে জ্বলেপুড়ে ছাড়খার করে দেয় সব।
জাগে অগ্নুৎপাতের লেলিহান শিখা
ওঠে সাইক্লোনের তীব্র ঝড়ঝঞ্ঝা,
গেইসারের উষ্ণ জলের ফোয়ারা বয়
ভুমিকম্পের প্রচন্ডতা নিয়ে সে রুখে দাঁড়ায়।
রঞ্জিত বুকের শোণিত ধারা পায়ে দ’লে
করে গগন বিদারী চিৎকার, ‘রাষ্ট্রভাষা বাঙলা চাই।’
লাল তরলের ঋণে পাওয়া ভাষা
হায়েনার সাথে জুঝে পাওয়া ভাষা
ভাইয়ের লাশের বিনিময়ে পাওয়া ভাষা
শিকল ভেঙ্গে কেড়ে আনা ভাষা
আমার মায়ের সাধের বাংলা ভাষা
আজ নীরবে কাঁদে, হারিয়ে তাঁর দিশা।
বর্ণমালা ঝরে ঝরে পড়ে চোখের জল হয়ে
দুঃখিনি মা জলভরা চোখে চেয়ে দেখে-
তাঁর সন্তানেরা
তাঁর নাড়ীছেড়া ধনেরা
বাংলায় কথা বলে না আর।
হিন্দি-উর্দু-ইংরেজি চেপে বসেছে আজ
দূর্বল বাংলার চওড়া কাঁধে দেখ ওদেরই সাজ।
মা, শুধুই কাঁদে
আমার মা, বাংলায় কাঁদে
মায়ের ভাষা বাংলায়, বিলাপ করে কাঁদে।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।